ঢাকা পোস্ট ২৪ এর তথ্য মতে ভোলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর পরিবারকে মুখ না খোলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশুটির হাতে মাত্র ২০ টাকা গুঁজে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে মারধরের অভিযোগে সাবেক এক ইউপি সদস্যকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
মিডিয়ার নিরবতা ও দ্বিমুখী নীতি:
একটি স্কুলে চারদেয়ালের মাঝে এত বড় একটি জঘন্য ঘটনা ঘটে গেল, অথচ মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার প্রতিক্রিয়া বা তৎপরতা অত্যন্ত সীমিত। যদি এই অপরাধটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বা মাদ্রাসায় ঘটত, তবে কি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা একই থাকত?
অতীতের অভিজ্ঞতা বলে—মাদ্রাসায় ছোট থেকে ছোট কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলেই তা নিয়ে মিডিয়ায় টকশো, ধারাবাহিক প্রতিবেদন এবং পুরো মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রতিযোগ শুরু হয়ে যায়। এমনকি পুরো ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়। অথচ স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের মাধ্যমে সংঘটিত বড় বড় অপরাধের ক্ষেত্রে সেই একই মিডিয়া যেন নীরবতার চাদর মুড়ি দেয়, কিংবা দেখেও না দেখার ভান করে।
অপরাধের কোনো প্রতিষ্ঠান বা পোশাক হয় পনটোনা:
অপরাধ সর্বাবস্থায় অপরাধ। মাদ্রাসায় কোনো অন্যায় হলে যেমন তা অপরাধ, স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে তা-ও সমান অপরাধ। কোনো অপরাধী তার প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে বা শিক্ষকতার আড়ালে বেঁচে যেতে পারে না। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট স্থান বা গোষ্ঠীর অপরাধের পক্ষে অতি-উৎসাহী হয়ে ওঠা, আর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে নিশ্চুপ থাকা—মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্ট ও দ্বিমুখী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার এবং জবাবদিহিতা সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমান হওয়া উচিত।
