সামাজিক পরিবর্তনের হাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে 'আধুনিকতা' ও 'মুক্তচিন্তা'র দোহাই দিয়ে এমন কিছু আচরণ সমাজে দৃশ্যমান হচ্ছে, যা আমাদের দীর্ঘদিনের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সন্তান ও বাবা-মায়ের সম্পর্কের পবিত্রতা সার্বজনীন, কিন্তু সেই স্নেহের প্রকাশ যখন শালীনতা ও নীতি-নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে, তখন তা সামাজিক অবক্ষয়েরই ইঙ্গিত দেয়।
সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা ও বাবার মধ্যে প্রদর্শিত অতিরিক্ত ও অমূলক ঘনিষ্ঠতা—যেমন ঠোঁটে চুম্বনের মতো পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ—সমাজ সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সম্পর্কের একটি সুনির্দিষ্ট মার্জিত রূপ রয়েছে। বাবা ও মেয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধার। তবে ইসলামী শরিয়ত ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এক ধরনের শালীনতা, আত্মসংযম এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব ও আদব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
ইসলামে পর্দার বিধান এবং মাহরাম সম্পর্কের মধ্যেও শালীন আচরণ ও পোশাকের শিষ্টাচারের কথা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাবার প্রতি স্নেহের বহিপ্রকাশ কখনো এমন কোনো রূপ নেওয়া উচিত নয়, যা শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে কিংবা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নিন্দনীয় হয়।
অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণকে 'আধুনিকতা' বা 'প্রগতিশীলতা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মানসিকতা সমাজকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমের সংস্কৃতি আর আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সচেতনতা ও করণীয়:
১. সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের শিক্ষা: পরিবারেই সন্তানকে ধর্মীয় ও সামাজিক শিষ্টাচারের প্রাথমিক পাঠ দিতে হবে। আধুনিকতার সঠিক অর্থ যে অপসংস্কৃতি গ্রহণ নয়, তা বোঝানো প্রয়োজন।
২. সীমারেখা অনুধাবন: স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ সব সময় শালীন ও মার্জিত হওয়া উচিত। পবিত্র সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষায় পিতা ও প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা উভয়কেই আচরণের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
৩. সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা: ভার্চুয়াল মিডিয়া ও সমাজে প্রগতিশীলতার মোড়কে তৈরি করা এই ধরনের বিভ্রান্তিকর চর্চার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার জায়গাটি যেন অন্ধ অনুকরণ বা অপসংস্কৃতির প্রভাবে কুলুষিত না হয়। নিজস্ব ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক ঐতিহ্য বজায় রেখে সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করাই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজের মূল ভিত্তি।
